• স্পিরুলিনা

    সামুদ্রিক শৈবাল স্পিরুলিনা এখন বাংলাদেশে

    স্পিরুলিনা

    স্পিরুলিনা হলো এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র নীলাভ সবুজ শৈবাল,সামুদ্রিক শৈবাল নামেই এর বেশি পরিচিতি। এটি শৈবাল হলেও কিন্তু অন্য সব শৈবালের মতো নয় এটি জাপানে নড়ি বলে অনেক আগের থেকেই এটি তারা খেয়ে আসছে কিন্তু বাংলাদেশে এখনো এটা তেমন প্রচার হয়নি। এটি প্রচুর পরিমানে ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন,পটাশিয়াম, জিংক প্রোটিন ইত্যাদি খাদ্য গুন রয়েছে যার কারনে একে সুপার ফুড বলে।

    এতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকায় একে ‘সুপার ফুড’ বলা হয়।
    সুপার ফুড বলার আরও কয়েকটি কারণ আছে। এতে মাছ ও গরুর মাংসের তুলনায় ৩ গুণ এবং ডিমের তুলনায় ৬ গুণ বেশি প্রোটিন রয়েছে।
    সয়াবিনের তুলনায় ২ গুণ বেশি মিনারেল রয়েছে। আটার চেয়ে ৪ গুণ বেশি ফাইবার বা খাদ্য আঁশ রয়েছে। এতে গাজরের তুলনায় ৫ গুণ ও পালং শাকের তুলনায় ৪০ গুণ বেশি ক্যারোটিন রয়েছে।

    দুধের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম রয়েছে। এতে পালং শাকের তুলনায় ৬৫ গুণ বেশি এবং গরুর মাংসের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি আয়রন থাকে। এটি পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি সবজি।

    আবার এটাকে ফিউচার ফুড বলে কারন খুব বেশি দূরে না আমাদের খাদ্য সংকট যে দেখা দিবে ১ কেজি স্পিরুলিনা ১০০০ কেজি ফলমূল সবজির পরিমান পুষ্টি গুন থাকে তাই এটি খেলে আমাদের খাবার কম খেলেও শরীরে পুষ্টির অভাব থাকবে না

    এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, লৌহ ও একাধিক খণিজ পদার্থ। সাধারণ খাদ্য হিসেবে তো বটেই নানা রোগ নিরাময়ে মুল্যবান ভেষজ হিসেবে দেশে-বিদেশে স্পিরুলিনার প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

    এরমধ্যে প্রোটিন ৬০-৭০%। যার বেশিরভাগই ইসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে গঠিত। কার্বোহাইড্রেট ১৫% হিসেবে থাকে গ্লাইকোজেন, ফ্যাট ৫-৮% মূলত ইসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড যেমন গামা লিনোলেয়িক অ্যাসিড বেশি থাকে। এছাড়াও মিনারেলসের মধ্যে রয়েছে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও সেলেনিয়াম। ভিটামিনের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬, বি১২, ভিটমিন-ই ও ভিটমিন-কে। আর ন্যাচারাল পিগমেন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্লোরোফিল, জ্যান্থোফিল, বিটা ক্যারোটিন ও ফাইটোসায়ানিন।

    স্বাদ ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন স্পিরুলিনা নিয়মিত সেবন করলে দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা, রাতকানা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, আলসার, বাত, হেপাটাইটিস ও ক্লান্তি দূর হবে।

    এটা একটা ফুড সাপ্লিমেন্ট। অনেক ধরনের সাহায্য করে। আর প্রতিদিন একবার করে খেলে এন্টিবডি তৈরী হবে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

    স্পিরুলিনার ঊপকারিতাঃ
    ১. স্তন ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে ।
    স্পিরুলিনা ক্যান্সার হওয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করে । স্পিরুলিনার নীল-সবুজ রঙ এটা ক্যান্সা্রের কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম হয় । স্পিরুলিনা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামক সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ । গবেষণায় দেখা গেছে স্পিরুলিনা স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা কার্যকর প্রমাণিত দেখানো হয়েছে ।

    ২. বাত প্রতিরোধ করে ।
    স্পিরুলিনা প্রকৃতি বিরোধী প্রদাহ এবং বাত রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী । এর অতিরিক্ত পুষ্টি পেতে রস, পাস্তা, সালাদ, রুটি আকারে আপনার খাদ্যের মধ্যে স্পিরুলিনা অন্তর্ভুক্ত ।

    ৩. যকৃতের জন্য অত্যন্ত ভাল ।
    স্পিরুলিনা যকৃতের ক্ষতি, যকৃত ব্যর্থতা এবং সিরোসিস এর বিরুদ্ধে কাজ করে শরীরকে রক্ষা করে । এটা ভিটামিন বি, ই, ম্যাঙ্গানিজ দস্তা, লোহা, তামা, সেলেনিয়াম, এবং প্রোটিনের মত খনিজ সমৃদ্ধ উৎস । এছাড়া এটা যকৃতের ব্যথা হ্রাস করে এবং যকৃতে ট্রাইগ্লিসেরাইড এর ক্ষতি এড়িয়ে যেতে সক্ষম ।
    .৪. চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে । স্পিরুলিনা যে কোন ধরণের ক্ষতি থেকে চোখকে রক্ষা করে । যা ম্যাঙ্গানিজের উত্তম উৎস উচ্চ পরিমাণে দশ গুণ বেশি ভিটামিন রয়েছে । এটি ছানির পতন এবং মাচুলার মত চক্ষু রোগ ভাল করে শক্তিশালী এবং পুষ্টিকর করে তোলে ।

    ৫. হজমশক্তি বৃদ্ধি করে ।
    ই.কোলাই এবং চান্দিদার মত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি দমন করে । স্পিরুলিনা পাচনতন্ত্রএর মধ্যে lactobacillus এবং bifidobacterial মত ভাল ব্যাকটেরিয়া তৈরী করে । সুতরাং, এটা পুষ্টি শোষণ করে শরীরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে হজম বাড়ায় ।

    ৬. কিডনিকে বিষাক্ততা থেকে বাঁচায় ।
    স্পিরুলিনা ক্লোরোফিল একটি উচ্চ ঘনত্ব সম্পন্ন এবং সেরা প্রাকৃতিক detoxifiers । এটা কিডনি থেকে ভারী ধাতু, ক্ষতিকারক রশ্মি, এবং দূষণকারী মুছে কিডনির বিষাক্ততা কমে যায় ।

    ৭. এলার্জির জম!
    প্রায় ৬ মাস ধরে দৈনিক স্পিরুলিনা গ্রহণ এলার্জি উপসর্গ কমিয়ে দেয় । ধুলোর অতি ক্ষুদ্র পরজীবী কীটবিশেষ, ছাঁচ এবং পোষা প্রাণী, ফুলের পরাগ বা বহুবর্ষজীবী এলার্জি থেকে এলার্জিক রাইনাইটিস (ঋতু) স্পিরুলিনার সাহায্যে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করা যেতে পারে ।

    ৮. ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ।
    স্পিরুলিনার মধ্যে অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, এবং phycocyanin’s উপস্থিতি ডায়াবেটিস কমায় । এটি ডায়াবেটিকসের মধ্যে লিপিড মাত্রা উন্নত করতে সাহায্য করে । এতে linolenic অ্যাসিড রয়েছে। ২ মাস দৈনিক দুইবার spirulina গ্রহণ রক্তে শর্করার মাত্রা সুষম রাখে ।

    ৯. রোগপ্রতিরোধকারী ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে ।
    স্পিরুলিনা একটি চমৎকার আক্রমণ বিরোধী সহায়তাকারী হয় । স্পিরুলিনার মধ্যে পলিস্যাকারাইড উপস্থিতি যার ফলে রোগ এর বিভিন্ন বাধা, ইমিউন সিস্টেম উন্নত করার জন্য সুনাম রয়েছে ।

    ১০. ওজন কমাতে সাহায্য করে ।
    স্পিরুলিনা প্রোটিন, ক্ষুধা কম রাখে এবং আপনার শরীরের স্তূপাকার চর্বিকে নিরাময় করে । তাই এটা ব্যায়াম এর সঙ্গে মিলিত কোন ওজন কমানোর খাদ্যের মধ্যে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ খাবার ।

    ১১. মেনোপজ উপসর্গের হ্রাস ।
    কয়েক মাসের জন্য দৈনিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্পিরুলিনা গ্রহণ দুঃসহ স্মৃতিচারণায়, বিষণ্নতা ও উদ্বেগ এর মত মেনোপজ উপসর্গ কমিয়ে দেয় । এবং মেনোপজ চলছে এমন নারী স্পিরুলিনা নেওয়ার পর মানসিক প্রশান্তি এবং মানসিক ভারসাম্য অভিজ্ঞতা হবে নিশ্চিত ।

    ১২. তাৎক্ষনিক শক্তি সহায়তাকারী ।
    স্পিরুলিনা বিপাক বৃদ্ধি এবং তাৎক্ষণিক শক্তি প্রদান করে । ক্লোরোফিল এবং phycocyanin সমৃদ্ধ, এটা আপনার শক্তির মাত্রা অনুমোদন শর্করা তৈরি করতে সূর্যালোক থেকে শক্তি শোষণ করে, এটা মনোবল তৈরী করে ।
    ১৩. ক্ষত নিরাময় ।
    স্পিরুলিনা ব্যাকটেরিয়া, খামির এবং ছত্রাক বৃদ্ধি inhibiting দ্বারা ক্ষত নিরাময় দ্রুততর একটি নিখুঁত প্রাকৃতিক প্রতিকার যা বিরোধী জৈব এবং বিরোধী প্রদাহজনক বৈশিষ্ট্য আছে ।

    ১৪. স্বাস্থ্যকর বাচ্চার উন্নয়ন ।
    স্পিরুলিনা পুষ্টিতে পরিপূর্ণ, এটা সন্তানদেরকে স্তন্যদান করতে অত্যন্ত সহায়ক । স্পিরুলিনায় linolenic অ্যাসিড রয়েছে এবং আপনার বাচ্চার সুস্থ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন ।

    ১৫. অ্যাঞ্জায়মার প্রতিরোধ ।
    অ্যাঞ্জায়মার রোগ এর কারণে প্লেক মেমরি ক্ষতি ঘটাচ্ছে, যা amyloid-বিটা প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে থাকে । স্পিরুলিনা সেবনে এই প্রোটিন মাত্রা হ্রাস করা যায় এবং অ্যাঞ্জায়মার রক্ষা করতে সাহায্য করে । এছাড়াও, আক্রমণের ফলে তার পক্বতা প্রতিরোধ মৌল থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে ।

    ১৬. মেজাজ ফুরফুরে রাখে ।
    স্পিরুলিনা অ্যামিনো অ্যাসিড এল-ট্রিপটোফেন, আপনার মেজাজ ভাল করে এবং হাসিখুশী রাখে ।

    ১৭. রক্তাল্পতা কমায় ।
    আয়রনের অভাব বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে খুবই সাধারণ ও তা ব্যাপক আকারে । স্পিরুলিনা আয়রনের সেরা প্রাকৃতিক সূত্র । এটি ভিটামিন বি এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে সফলভাবে আচরণ রক্তাল্পতা থেকে বাছাতে সাহায্য করে । এতে বিরোধী oxidants রয়েছে ।

    ১৮. ক্ষুধা হ্রাস
    স্পিরুলিনা আপনার শরীরকে পূর্ণাঙ্গ করে তোলে এবং সেইসাথে ক্ষুধা হ্রাস করে । খাবার আধা ঘন্টা আগে স্পিরুলিনা গ্রহণ করুন দেখবেন আপনি স্বাভাবিকভাবেই কম খাচ্ছেন ।

    উন্নত রাষ্ট্র গুলির মতো আমাদের দেশেও স্পিরুলিনা খাওয়ার চাহিদা দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে  আমাদের দেশের মানুষ এখন নিজের স্বাস্থ্য কে সুরাক্ষা রাখার জন্য সচেতন।